সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নারীর কেন দুই রূপ - প্রথম আমি যেদিন ঋতুমতী হয়েছিলাম

ফেসবুক ছোটো গল্প - bengali short story - নারীর কেন দুই রূপ - প্রথম আমি যেদিন ঋতুমতী হয়েছিলাম
প্রথম আমি যেদিন ঋতুমতী হয়েছিলাম,মা আমায় ভারী গলায় বলেছিল
"আজ থেকে কোনো ছেলেদের সাথে মিশবে না,এবার তুমি বড়ো হয়ে গেছো তা মনে রেখো। লুকোচুরি-ছোটাছুটি-গাছে চড়া এসব আর খেলা চলবে না।বন্ধুত্ব করতে হলে শুধু মেয়েদের সাথেই বন্ধুত্ব করবে। আর যেন না দেখি,ছেলেদের সাথে ধেই-ধেই করে পাড়া ঘুরতে। স্কার্ট কেনার জন্য আর বায়না করবে না।এসব পড়ার বয়স তোমার আর নেই।"

সেদিন রাতের বেলায় আমি খুব কেঁদেছিলাম। আর ভাবছিলাম-
-কি এমন হল,যে এত নিয়ম??
ডাক্তার পিসি মাথায় হাত বুলিয়ে সেদিন শান্ত ভাবে কাছে টেনে আদর করে বলেছিল - 
"ছেলেদের সাথে মিশলে পেটে বাচ্ছা এসে যায়,পেট কাটতে হয় তখন;তাই মা বারন করেছে।....বুঝলে??"
আমি ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলাম সেদিন।

একদিন পাড়ার মাঠে কুমিরডাঙা খেলছিলাম,মনের ভুলে উঠে পড়েছিলাম মায়ের মন্দিরে। মা ছুটতে ছুটতে এসে কান ধরে টানতে টানতে মন্দির থেকে নিচে নামিয়েছিল সেদিন।
সেদিন মা বলেছিল-
"এ কি করলি সর্বনাশী-হতভাগী,এই সময় কেউ মায়ের মন্দিরে ওঠে?তোকে বারণ করিনি আমি?
বল....
বল....
কি রে সর্বনাশী বল।"
সেদিন মা আমার ভুল টাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য মা কালী র কাছে জোড়া পাঁঠা বলি মানদ করেছিল।
উঠোনে দাঁড়িয়ে সেদিন চিৎকার করে মা বলেছিল- "এই মেয়ে পাপ গ্রহণ করে এনেছে আজ।আমি মরলে শান্তি পাই।"

এক ছুটে সেদিন অশ্রুসিক্ত ছলছল চোখ নিয়ে ঘরের ভিতরে চলে গিয়েছিলাম। সেদিন ক্ষোভে,দুঃখে,অপমানে অজান্তেই অপয়া বলে নিজেই নিজেকে দোষারোপ করেছিলাম। সেদিন রাত্রের বাবার বিরক্তিকর মুখটা আজও জলছবি র মত ভাসে।

বিয়ের পর দিনেই শাশুড়ী বলেছিল-
"ছি বৌমা ছি!
আজই এসব হতে হলো?
ওষুধ খেয়ে দুদিন পিছতে পারলে না?
যত সব অশুভ আজকের দিনেই হতে হলো?
এখনো কি তুমি বাচ্ছা খুকি টি আছো? নাকি অশিক্ষিত?? 
কি অলক্ষুণে বৌ রে বাবা..."
পরের মাসে এক দোকান থেকে প্যাড কিনতে গিয়েছিলাম। দোকানদার আশ্চর্যজনক ভাবে মুচকি হেসে টেবিলের তলা থেকে ঠেঙায় মুড়ে কালো পলিথিন করে হাতে দিলেন।
ঠিক এরকম মনে হলো,যেনো কোনো চোরাই মাল সাফাই হচ্ছে।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ওষুধের দোকানের লম্বা লাইনের কিছু অপরিচিত পুরুষ মুখ ব্যাঙ্গ ভঙ্গিতে এমনভাবে বস্তুটির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল,যেন পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য জিনিস দেখছে বলে মনে হল।

অফিস থেকে স্বামী ফিরে রাত্রি বেলায় বিশ্রামরত অবস্থায় হঠাৎ কালো পলিথিন মোড়া বস্তুটির উপর দৃষ্টিগোচর হতেই বলে উঠেছিল-
”ছি! ছি!" এতটুকু লজ্জা বোধ হয়নি এসব চাইতে? তাও আবার অচেনা-অজানা পরপুরুষ এর কাছ থেকে। আমার মান-সম্মান আর কিছুই রাখবে না দেখছি!
রাতে শুতে যাওয়ার সময় বলেছিল- "এই কদিন রাতে তুমি নীচে মেঝেতে মাদুর পেতেই শোবে।"

এতো ছি-ছি এর মাঝেও যদি কোনো মাসে ডেট পিছয়,তখন কাকিমা-জেঠিমাদের আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর,বিয়ের পর শাশুড়ি র সন্দেহের এক মাপকাঠি।  অথচ একই সমাজে নারীকে দেবীর আসনে বসায়,বোধন করে,আরাধনা করে...আবার,একই সমাজে নারীকে লোকচক্ষু র আড়ালে ভিতর ভিতর নির্যাতিত হতে হয়।
এসব কি ভণ্ডামি নয়?
আমি জানি আপনি নিজের সমাজ কে বড়ো করবার জন্য বাইরে থেকে যতোই বলুন না কেন-”এসব আচার-বিচার আমাদের সমাজে মানা হয় না। আমরা এসব মানি না।”
কিন্তু,আপনি বুকে হাত দিয়ে বলুন তো-” সভ্য সমাজে এসব আচার-বিচার আজ কি মানা হয় না?”
নাকি,”ভিতরে সবাই মানে,বাইরে সভ্য হওয়ার প্রতিযোগিতা চলে??”

 ছোটো গল্প,  Bengali Short Story

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কীভাবে সরষে ইলিস রান্না করবেন - সরষে ইলিশ রান্নার রেসিপি

সরষে ইলিশ রান্নার পদ্ধতি- বন্ধুরা ইলিশ মাছ খেতে কোন বাঙালি না ভালো বাসে বলুন ? আর তাই যদি হয় সরষে দিয়ে ইলিশ তাহলে তো যে কোনও বাঙ্গালির জিভে ...