বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

জেনে নিন কোরান এর পাঁচটি বিস্ময়কর তথ্য - এই পৃথিবী তথা মহাবিশ্ব নিয়ে

জেনে নিন কোরান এর পাঁচটি বিস্ময়কর তথ্য - এই পৃথিবী তথা মহাবিশ্ব নিয়ে

 
পবিত্র কোরান হল সত্যিই একগুচ্ছ বিস্ময়ের ভাণ্ডার। অক্ষর থেকে শব্দ, শব্দ থেকে বাক্য জাণা-অজানা সব জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্মুক্ত বিশ্বকোষ। তেমনি আমরা যে গ্রহে বসবাস করি, অর্থাৎ পৃথিবী এ সম্পর্কেও কোরআনে রয়েছে বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার। মহান আল্লা বলেন, বিশ্বাসীদের জন্য এই পৃথিবীতে অসংখ্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ২৩)

5 MISTIOUS FACT FROM KORAN SARIF
মহান আল্লাহ তার সৃষ্টিতত্ত্ব বিশ্লেষণ নিঃসন্দেহে একটি বড় ইবাদত। পবিত্র কোরআনে তার মানুষকে নিজের সৃষ্টি ও আশপাশের সৃষ্টিজগতের প্রতি অনুসন্ধিৎসু  দৃষ্টিদানের নির্দেশ দেয়া হঈয়াছে। আর পবিত্র কোরআন সেই কারণে অদ্বিতীয় নির্ভরযোগ্য উৎস। চলুন দেখি মহাগ্রন্থ কোরান এ পৃথিবী ও মহাকাশবিষয়ক কী কী বিস্ময়কর তথ্য রয়েছে।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি বিস্ময়কর তথ্য এখানে উল্লেখ করা হলো—

বিস্ময়কর তথ্য ১ - পৃথিবীর সূচনা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে

খুব বেশি দিন আগের কথা নয় যে মানুষ জানতে পেরেছে মহাবিশ্বের সূচনা এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমেই ঘটেছে।  আজ থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ বছর আগে বিশ্বস্রষ্টা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কোরানে এই ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। ‘অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে সপ্তাকাশ ও পৃথিবী পুঞ্জীভূত হয়ে ছিল। অতঃপর আমি উভয়টি এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে সূচনা করেছি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩০)

বিস্ময়কর তথ্য ২ - মহাকাশ সৃষ্টির আগে পৃথিবীর সৃষ্টি

মহাকাশ নাকি পৃথিবী? আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র নাকি পৃথিবীর গাছপালা কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছে? উত্তর খুঁজতে হলে বেশি দূর যেতে হবে না। আপনার ঘরের পবিত্র কোরান টীকে হাতে নিন। তাতে চোখ বুলালেই দেখতে পাবেন, ‘আপনি বলুন, সত্যিই কি তোমরা সেই মহাপ্রভুকে অস্বীকার করছ! যিনি পৃথিবীকে মাত্র দুদিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তার অংশীদার নির্ধারণ করছেণ ? তিনি তো সমস্ত জগতের প্রতিপালক। যিনি পৃথিবীতে তার উপরের স্থানে পাহাড় স্থাপন করেছেন এবং মাটীর ভিতরাংশ বরকতপূর্ণ করেছেন আর ভূগর্ভে জোঠেষ্ট খাদ্যদ্রব্য মজুদ করেছেন মাত্র চার দিনে। সবার জন্য সমানভাবে। সুতরাং তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন আর তা ছিল ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। (সুরা : ফুসিসলাত, আয়াত : ৯-১১) এখানে পর্যায়ক্রমে প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি এরপর ভূগর্ভস্থ বিষয় সমূহের আলোচনার পর আসমানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিস্ময়কর তথ্য ৩ - ক্রমে সংকীর্ণ হয়ে আসছে পৃথিবীর পরিধি

পদার্থবিজ্ঞানীদের গবেষণামতে পৃথিবী তার জোণ্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত মাটীর তলার জলের এক-চতুর্থাংশ জল হারিয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণামতে পৃথিবীর ভার বা ওজন (৫,৯৭২,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০) অর্থাৎ ৫ সেক্সটিলিয়ন ৯৭২ কুইন্টিলিয়ন। গবেষণায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিবছর পৃথিবী তার মোট ওজন থেকে ৫০০ টন ওজন হারাচ্ছে। এ ছাড়া অক্সিজেনের ভাগ প্রতিনিয়ত কমে আসাও হালের বিজ্ঞানীদের কাছে চীণতার বিষয়। যা থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে পৃথিবীর পরিধি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে মহান আল্লা বলেন, ‘তারা কি দেখে না আমি ভূপৃষ্ঠের পরিধি ক্রমেই সংকুচিত করে আনছি, এর পরও কি তারাই বিজয়ী!’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৪৪)

বিস্ময়কর তথ্য ৪ -পৃথিবী দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে

পবিত্র কোরানে পৃথিবী স্থির কিংবা সূর্যের পাশে ঘূর্ণমান কোনোটিই বলা হয়নি। বরং এ বিষয়ে পবিত্র কোরানে যা এসেছে তার সারকথা হলো, পৃথিবী আপন কক্ষপথে দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটার মতো ঢেউ খেলে ছুটে চলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর চলন প্রকৃতি প্রধানত দুই ধরনের। প্রথমত, পৃথিবীর নিজস্ব ঘূর্ণায়ন যা ঘণ্টায় প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লা বলেন, ‘মহান আল্লাহ যিনি আসমান জমিন যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং দিনকে রাতের ওপর এবং রাতকে দিনের ওপর আচ্ছাদিত করেন।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫) আর এ কথা শিরোধার্য, কোনো বৃত্ত আকৃতির জিনিসকে অনুরূপ অন্য কোনো জিনিস দ্বারা বারবার আচ্ছাদিত করার জন্য, তা ঘূর্ণমান হওয়ার বিকল্প নেই। দ্বিতীয়ত, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর সন্তরণ। বহুকাল যাবৎ মানুষ এ ধারণা পোষণ করে আসছে যে পৃথিবী সূর্যের পাশে ঘূর্ণমান। তবে খুব সাম্প্রতিক সময়ে মহাকাশ গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর চলার ধরনটাকে ঘূর্ণন শব্দে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়। বরং পৃথিবীসহ আরো অনেক গ্রহ উপগ্রহ সর্বদা সূর্যকে ঘিরে সাঁতার কাটার মতো ওপর-নিচ ঢেউ তুলে সম্মুখপানে অগ্রসর হচ্ছে। মহান আল্লা পবিত্র কোরানে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর আলোচনা টেনে বলেন, প্রত্যেকেই আপন কক্ষপথে সন্তরণ করছে। (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৪০)

বিস্ময়কর তথ্য ৫- পৃথিবীর নিচে বিপুল পানির উৎস

টিউবওয়েল থেকে জল তুলছেন কিংবা পাম্পের সাহায্যে। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন মাটীর নিচের এই বিপুল পরিমাণ জলের উৎস কোথায়? তাহলে জেনে নিন, মহান আল্লা  বলেন, ‘আমি আসমান থেকে পরিমাণমতো পানি বর্ষণ করি, এরপর তা ভূগর্ভে সংরক্ষণ করে রাখি।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১৮)

সংগৃহীত : মুফতি সাআদ আহমাদ এর লেখা থেকে, শিক্ষক, ইমদাদুল উলুম রশিদিয়া মাদরাসা, ফুলবাড়ী গেট, খুলনা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কীভাবে সরষে ইলিস রান্না করবেন - সরষে ইলিশ রান্নার রেসিপি

সরষে ইলিশ রান্নার পদ্ধতি- বন্ধুরা ইলিশ মাছ খেতে কোন বাঙালি না ভালো বাসে বলুন ? আর তাই যদি হয় সরষে দিয়ে ইলিশ তাহলে তো যে কোনও বাঙ্গালির জিভে ...